সুন্দরবনে ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরলেন ১১ জেলে
- আপডেট সময় : ০৭:৫২:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে
সুন্দরবনে বনদস্যুদের হাতে অপহরণের পর সাত দিন জিম্মি থেকে ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১১ জেলে। গত ৩ মে রাতে পূর্ব সুন্দরবনের আলোরকোল এলাকা থেকে তাঁদের অপহরণ করে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী। পরে আরেক বনদস্যু গ্রুপ শরীফ বাহিনী গোলাগুলির মাধ্যমে তাঁদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। মুক্তিপণ পাওয়ার পর শুক্রবার ভোরে জেলেদের সুন্দরবনের ধানসাগর এলাকার আড়য়ার নদীর মোহনায় নামিয়ে দেওয়া হয়।
আলোরকোল থেকে অপহরণ
জিম্মিদশা থেকে ফিরে আসা শরণখোলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের জেলে রুবেল হাওলাদার জানান, ৩ মে রাতে তিনিসহ আরও ১০ জেলেকে পূর্ব সুন্দরবনের আলোরকোল এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়। প্রথমে জাহাঙ্গীর বাহিনী তাঁদের পায়ে শিকল পরিয়ে আটকে রাখে।
অপহরণের তিন দিন পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। রুবেলের ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ মে বনদস্যু শরীফ বাহিনী জাহাঙ্গীর বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলির পর জেলেদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এরপর তাঁদের সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়।
মুক্তিপণ পেয়ে নদীর মোহনায় নামিয়ে দেয়
পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা পৌঁছানোর পর শুক্রবার ভোরে শরীফ বাহিনী ১১ জেলেকে নৌকায় করে ধানসাগর এলাকার আড়য়ার নদীর মোহনায় নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে প্রায় তিন থেকে চার কিলোমিটার হেঁটে তাঁরা বাড়ি পৌঁছান।
ফিরে আসা জেলে রুবেল অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীর বাহিনী তাঁদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। দীর্ঘ সাত দিনের ভয়, অনিশ্চয়তা ও বন্দিদশা শেষে তাঁরা বাড়ি ফিরলেও আতঙ্ক এখনো কাটেনি।
মাথাপিছু ৭০ হাজার টাকা
নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাছ ব্যবসায়ী জানান, বনদস্যুরা শুরুতে প্রত্যেক জেলের জন্য ১ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করেছিল। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে মাথাপিছু ৭০ হাজার টাকা নির্ধারণ হয়। সেই হিসাবে ১১ জেলের জন্য মোট ৭ লাখ টাকা দিয়ে তাঁদের ছাড়িয়ে আনা হয়।
ফিরে আসা জেলেদের মধ্যে রয়েছেন উত্তর রাজাপুর গ্রামের রুবেল হাওলাদার, ছবির, রাকিব, লুৎফর হাওলাদার, বাদল হাওলাদার, সজীব হাওলাদার, হাফিজুল, আলমগীর ফরাজী, ইয়াসিন হাওলাদার, পাথরঘাটার পদ্মা স্লুইস এলাকার রুবেল এবং খুলনার বটিয়াঘাটার দেব চন্দ্র।
থানায় অভিযোগ না যাওয়ার দাবি
এ বিষয়ে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামিনুল হক বলেন, মুক্তিপণ দিয়ে ১১ জেলে ফিরে আসার বিষয়টি তাঁদের জানা নেই। কেউ অভিযোগও দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
সুন্দরবনের ওপর জীবিকা নির্ভর করা জেলেদের জন্য এমন ঘটনা নতুন আতঙ্ক তৈরি করেছে। নদী, বন আর মাছের ওপর যাঁদের সংসার চলে, তাঁদের কাছে প্রতিটি যাত্রাই এখন ঝুঁকির হয়ে উঠছে। অপহরণ ও মুক্তিপণের ভয় শুধু জেলেদের নয়, তাঁদের পরিবারগুলোকেও অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে।















