বিয়ে গোপনের অভিযোগ ঘিরে ইতালিতে বাংলাদেশি প্রবাসীর ওপর হামলা, স্ত্রী আটক
- আপডেট সময় : ০৯:৫২:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে
ইতালির নাপোলি শহরের আংরি এলাকায় এক বাংলাদেশি প্রবাসীর ওপর হামলার অভিযোগে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান খুলনার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বাংলাদেশে আগে থেকেই স্ত্রী ও সংসার থাকার বিষয়টি তিনি ইতালিতে করা দ্বিতীয় বিয়ের সময় গোপন করেছিলেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে দাম্পত্য সম্পর্কে চরম উত্তেজনা তৈরি হয় এবং শুক্রবার রাতে নিজ বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে।
আগের সংসারের তথ্য গোপনের অভিযোগ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিজানুর রহমান বাংলাদেশে আগে থেকেই বিবাহিত ছিলেন। পরে ইতালিতে বসবাসের সময় আরেক বাংলাদেশি নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তাঁরা বিয়ে করেন। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় স্ত্রী পরে জানতে পারেন, মিজানুর তাঁর আগের বৈবাহিক সম্পর্ক ও বাংলাদেশে থাকা সংসারের কথা গোপন করেছিলেন।
এই তথ্য জানার পর তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কে অশান্তি দেখা দেয়। সম্পর্কের ভেতরে আস্থার সংকট ও গোপনীয়তার অভিযোগ থেকেই পরিস্থিতি সহিংসতায় রূপ নেয় বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে।
ঘুমন্ত অবস্থায় হামলার অভিযোগ
ঘটনার রাতে মিজানুর রহমান নিজ বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন। তখন তাঁর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনাটি ইতালির প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোড়ন তৈরি করেছে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের সংকট কীভাবে ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিতে পারে, এই ঘটনা সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে।
ঘটনাস্থল থেকে স্ত্রী আটক
হামলার পর ইতালিয়ান পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং অভিযুক্ত দ্বিতীয় স্ত্রীকে আটক করে। তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর শারীরিক আঘাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে আছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে হামলার কারণ, পারিবারিক বিরোধের প্রেক্ষাপট এবং ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি যাচাই করা হবে।
সহিংসতা কোনো সমাধান নয়
সম্পর্কে প্রতারণা, গোপনীয়তা বা আস্থাহীনতা বড় সংকট তৈরি করতে পারে। কিন্তু কোনো অভিযোগের জবাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। এমন ঘটনা শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকে বিপন্ন করে না, দুই পরিবার ও প্রবাসী সমাজকেও গভীর অস্থিরতার মধ্যে ফেলে।
এখন পুরো বিষয়টি ইতালির আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে তদন্তাধীন। তাই অভিযুক্ত স্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করে ভাষা ব্যবহার না করে “অভিযোগ”, “আটক” ও “তদন্তাধীন” শব্দ ব্যবহার করাই নিরাপদ।









