সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাবি সাংবাদিকতা বিভাগের অ্যালামনাই নেতৃত্বে ইলিয়াস-রিনভী-মাসউদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঈদ ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি কত দিন? শুধু জিপিএ-৫ নয়, বিশ্বমানের দক্ষ নাগরিক গড়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে কেটি পেরি–লিসার সঙ্গে বাংলাদেশের সঞ্জয় কারিনা কায়সার লাইফ সাপোর্টে, মেয়ের জন্য দোয়া চাইলেন কায়সার হামিদ ভয়াবহ অভিযোগ সেলিনার, স্বামীর বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ইতালিতে ছোট ভাই হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার বড় ভাই, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য মানব পাচারের অভিযোগে প্রথমবার বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞা বিয়ে গোপনের অভিযোগ ঘিরে ইতালিতে বাংলাদেশি প্রবাসীর ওপর হামলা, স্ত্রী আটক লিমন-বৃষ্টি হত্যার আগে হিশামকে নিয়ে পুলিশকে সতর্ক করেছিল পরিবার

মানব পাচারের অভিযোগে প্রথমবার বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অবৈধভাবে মানব পাচারের অভিযোগে প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া প্রতিষ্ঠানটির নাম ড্রিম হোম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেড। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির মালিকের যুক্তরাজ্যে থাকা সম্ভাব্য সম্পদ জব্দের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি ও অভিবাসন খাত নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ব্রিটিশ সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

গত ৫ মে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশ করে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ‘গ্লোবাল ইরেগুলার মাইগ্রেশন অ্যান্ড ট্র্যাফিকিং ইন পারসন্স স্যাংশনস রেগুলেশনস ২০২৫’-এর আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ সরকারের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণামূলক উপায়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিল। পরে এসব ব্যক্তিকে বিভিন্নভাবে শোষণের অভিযোগও পাওয়া যায়।

প্রতারণার মাধ্যমে নিয়োগের অভিযোগ

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ড্রিম হোম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেড বাংলাদেশি নাগরিকদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নিয়োগ দিত। এরপর বিদেশে নিয়ে গিয়ে তাদের অনিরাপদ ও শোষণমূলক পরিস্থিতিতে ফেলে দেওয়া হতো বলে অভিযোগ উঠেছে।

যুক্তরাজ্য সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানব পাচারবিরোধী নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিকভাবে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা

বিশ্লেষকদের মতে, মানব পাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে যুক্তরাজ্য এখন আরও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। বাংলাদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রথমবার এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনায় আন্তর্জাতিকভাবে শক্ত বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় বিদেশগামী কর্মীদের নিরাপদ অভিবাসন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং মানব পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশেও নজরদারি আরও জোরদারের দাবি উঠতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মানব পাচারের অভিযোগে প্রথমবার বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞা

আপডেট সময় : ১০:০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

অবৈধভাবে মানব পাচারের অভিযোগে প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া প্রতিষ্ঠানটির নাম ড্রিম হোম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেড। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির মালিকের যুক্তরাজ্যে থাকা সম্ভাব্য সম্পদ জব্দের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি ও অভিবাসন খাত নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ব্রিটিশ সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

গত ৫ মে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশ করে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ‘গ্লোবাল ইরেগুলার মাইগ্রেশন অ্যান্ড ট্র্যাফিকিং ইন পারসন্স স্যাংশনস রেগুলেশনস ২০২৫’-এর আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ সরকারের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণামূলক উপায়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিল। পরে এসব ব্যক্তিকে বিভিন্নভাবে শোষণের অভিযোগও পাওয়া যায়।

প্রতারণার মাধ্যমে নিয়োগের অভিযোগ

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ড্রিম হোম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেড বাংলাদেশি নাগরিকদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নিয়োগ দিত। এরপর বিদেশে নিয়ে গিয়ে তাদের অনিরাপদ ও শোষণমূলক পরিস্থিতিতে ফেলে দেওয়া হতো বলে অভিযোগ উঠেছে।

যুক্তরাজ্য সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানব পাচারবিরোধী নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিকভাবে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা

বিশ্লেষকদের মতে, মানব পাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে যুক্তরাজ্য এখন আরও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। বাংলাদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রথমবার এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনায় আন্তর্জাতিকভাবে শক্ত বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় বিদেশগামী কর্মীদের নিরাপদ অভিবাসন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং মানব পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশেও নজরদারি আরও জোরদারের দাবি উঠতে পারে।