সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাবি সাংবাদিকতা বিভাগের অ্যালামনাই নেতৃত্বে ইলিয়াস-রিনভী-মাসউদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঈদ ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি কত দিন? শুধু জিপিএ-৫ নয়, বিশ্বমানের দক্ষ নাগরিক গড়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে কেটি পেরি–লিসার সঙ্গে বাংলাদেশের সঞ্জয় কারিনা কায়সার লাইফ সাপোর্টে, মেয়ের জন্য দোয়া চাইলেন কায়সার হামিদ ভয়াবহ অভিযোগ সেলিনার, স্বামীর বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ইতালিতে ছোট ভাই হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার বড় ভাই, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য মানব পাচারের অভিযোগে প্রথমবার বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞা বিয়ে গোপনের অভিযোগ ঘিরে ইতালিতে বাংলাদেশি প্রবাসীর ওপর হামলা, স্ত্রী আটক লিমন-বৃষ্টি হত্যার আগে হিশামকে নিয়ে পুলিশকে সতর্ক করেছিল পরিবার

মিরসরাইয়ে কালবৈশাখীর তণ্ডব: লণ্ডভণ্ড বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, অন্ধকারে ১০ হাজার পরিবার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, মিরসরাই

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের আঘাতে গ্রামীণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঝড়ে গাছ উপড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপর পড়ায় এবং তার ছিঁড়ে যাওয়ায় শনিবার দুপুর থেকে উপজেলার একটি বড় অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে আছে। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় এবং দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতের কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরের ঝড়ে উপজেলার আবুরহাট, সোনাপাহাড় ও ওচমানপুরসহ বেশ কিছু এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের পরপরই প্রায় ২০ হাজার গ্রাহক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। রোববার সকাল থেকে কিছু এলাকায় সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হলেও বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার পরিবার অন্ধকারে রয়েছে।

ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিয়ে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর বারইয়ারহাট জোনাল অফিসের ডিজিএম হেদায়েত উল্লাহ জানান, ঝড়ে সঞ্চালন লাইনের ওপর গাছ ও ডালপালা পড়ে দুটি খুঁটি পুরোপুরি ভেঙে গেছে এবং সাতটি খুঁটি হেলে পড়েছে। এছাড়া দুটি ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়া ছাড়াও ৩০ থেকে ৪০টি স্পটে বৈদ্যুতিক তার ও ড্রপ তার ছিঁড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয় জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিশেষ করে বিপণিবিতান ও পোল্ট্রি খামারগুলো বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে তাদের চরম বেগ পেতে হচ্ছে।

সোনাপাহাড় এলাকার বাসিন্দা সাখাওয়াত সাকিব জানান, শনিবার দুপুর থেকে তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করা হলে তারা কাজ চলছে বলে জানালেও ঠিক কখন নাগাদ সংযোগ ফিরবে তা নিশ্চিত করতে পারেনি। বিষুমিয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কয়েকদিন ধরেই লোডশেডিং চলছিল, তার ওপর ঝড়ের কারণে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকা মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংস্কার কাজের জন্য মাঠ পর্যায়ে পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োজিত আছে। তবে বৃষ্টির কারণে ভেজা লাইনে কাজ করা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় মেরামত প্রক্রিয়া কিছুটা ধীরগতিতে চলছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে রোববার রাত বা সোমবার সকালের মধ্যে সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ডিজিএম হেদায়েত উল্লাহ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মিরসরাইয়ে কালবৈশাখীর তণ্ডব: লণ্ডভণ্ড বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, অন্ধকারে ১০ হাজার পরিবার

আপডেট সময় : ০২:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, মিরসরাই

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের আঘাতে গ্রামীণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঝড়ে গাছ উপড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপর পড়ায় এবং তার ছিঁড়ে যাওয়ায় শনিবার দুপুর থেকে উপজেলার একটি বড় অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে আছে। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় এবং দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতের কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরের ঝড়ে উপজেলার আবুরহাট, সোনাপাহাড় ও ওচমানপুরসহ বেশ কিছু এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের পরপরই প্রায় ২০ হাজার গ্রাহক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। রোববার সকাল থেকে কিছু এলাকায় সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হলেও বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার পরিবার অন্ধকারে রয়েছে।

ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিয়ে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর বারইয়ারহাট জোনাল অফিসের ডিজিএম হেদায়েত উল্লাহ জানান, ঝড়ে সঞ্চালন লাইনের ওপর গাছ ও ডালপালা পড়ে দুটি খুঁটি পুরোপুরি ভেঙে গেছে এবং সাতটি খুঁটি হেলে পড়েছে। এছাড়া দুটি ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়া ছাড়াও ৩০ থেকে ৪০টি স্পটে বৈদ্যুতিক তার ও ড্রপ তার ছিঁড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয় জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিশেষ করে বিপণিবিতান ও পোল্ট্রি খামারগুলো বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে তাদের চরম বেগ পেতে হচ্ছে।

সোনাপাহাড় এলাকার বাসিন্দা সাখাওয়াত সাকিব জানান, শনিবার দুপুর থেকে তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করা হলে তারা কাজ চলছে বলে জানালেও ঠিক কখন নাগাদ সংযোগ ফিরবে তা নিশ্চিত করতে পারেনি। বিষুমিয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কয়েকদিন ধরেই লোডশেডিং চলছিল, তার ওপর ঝড়ের কারণে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকা মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংস্কার কাজের জন্য মাঠ পর্যায়ে পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োজিত আছে। তবে বৃষ্টির কারণে ভেজা লাইনে কাজ করা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় মেরামত প্রক্রিয়া কিছুটা ধীরগতিতে চলছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে রোববার রাত বা সোমবার সকালের মধ্যে সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ডিজিএম হেদায়েত উল্লাহ।