বাংলা|English|العربية|Ελληνικά|Français|हिन्दी|ਪੰਜਾਬੀ|中文|日本語|한국어|Italiano|Español|اردو|Português|Русскийv>
সংবাদ শিরোনাম ::
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের সম্ভাবনা, উপকূলে বৃষ্টি হতে পারে তিন দিন পর জলবায়ু-স্বাস্থ্য মূল্যায়নে ৩২ নম্বরের মধ্যে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ১৩ হাম ও উপসর্গে এক দিনে আরও সাত শিশুর মৃত্যু তিন লাল কার্ডের ম্যাচে আবাহনীকে হারাল ব্রাদার্স ইউনিয়ন জাতীয় ক্রিকেট লিগে অভিষেকে পাঁচ উইকেট রাকিবের, খুলনার জয় ১০ রানে মিরপুর টেস্টের দুই গ্যালারিতে বিনা টিকিটে প্রবেশের সুযোগ কঙ্গোতে অষ্টম প্রদেশে ছড়াল ইবোলা প্রাদুর্ভাব কঙ্গোতে শুরু হলো ইবোলা টিকার প্রথম ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ইউরোপা লিগে রেনের সঙ্গে ড্র জুভেন্টাসের, শীর্ষে লেভারকুসেন রোমাঞ্চকর ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে ভারত

মিরসরাইয়ে কালবৈশাখীর তণ্ডব: লণ্ডভণ্ড বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, অন্ধকারে ১০ হাজার পরিবার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬ ২৮২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, মিরসরাই

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের আঘাতে গ্রামীণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঝড়ে গাছ উপড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপর পড়ায় এবং তার ছিঁড়ে যাওয়ায় শনিবার দুপুর থেকে উপজেলার একটি বড় অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে আছে। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় এবং দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতের কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরের ঝড়ে উপজেলার আবুরহাট, সোনাপাহাড় ও ওচমানপুরসহ বেশ কিছু এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের পরপরই প্রায় ২০ হাজার গ্রাহক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। রোববার সকাল থেকে কিছু এলাকায় সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হলেও বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার পরিবার অন্ধকারে রয়েছে।

ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিয়ে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর বারইয়ারহাট জোনাল অফিসের ডিজিএম হেদায়েত উল্লাহ জানান, ঝড়ে সঞ্চালন লাইনের ওপর গাছ ও ডালপালা পড়ে দুটি খুঁটি পুরোপুরি ভেঙে গেছে এবং সাতটি খুঁটি হেলে পড়েছে। এছাড়া দুটি ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়া ছাড়াও ৩০ থেকে ৪০টি স্পটে বৈদ্যুতিক তার ও ড্রপ তার ছিঁড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয় জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিশেষ করে বিপণিবিতান ও পোল্ট্রি খামারগুলো বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে তাদের চরম বেগ পেতে হচ্ছে।

সোনাপাহাড় এলাকার বাসিন্দা সাখাওয়াত সাকিব জানান, শনিবার দুপুর থেকে তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করা হলে তারা কাজ চলছে বলে জানালেও ঠিক কখন নাগাদ সংযোগ ফিরবে তা নিশ্চিত করতে পারেনি। বিষুমিয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কয়েকদিন ধরেই লোডশেডিং চলছিল, তার ওপর ঝড়ের কারণে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকা মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংস্কার কাজের জন্য মাঠ পর্যায়ে পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োজিত আছে। তবে বৃষ্টির কারণে ভেজা লাইনে কাজ করা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় মেরামত প্রক্রিয়া কিছুটা ধীরগতিতে চলছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে রোববার রাত বা সোমবার সকালের মধ্যে সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ডিজিএম হেদায়েত উল্লাহ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © চলতিপত্র
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ থিমস সেলার

মিরসরাইয়ে কালবৈশাখীর তণ্ডব: লণ্ডভণ্ড বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, অন্ধকারে ১০ হাজার পরিবার

আপডেট সময় : ০২:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, মিরসরাই

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের আঘাতে গ্রামীণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঝড়ে গাছ উপড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপর পড়ায় এবং তার ছিঁড়ে যাওয়ায় শনিবার দুপুর থেকে উপজেলার একটি বড় অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে আছে। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় এবং দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতের কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরের ঝড়ে উপজেলার আবুরহাট, সোনাপাহাড় ও ওচমানপুরসহ বেশ কিছু এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের পরপরই প্রায় ২০ হাজার গ্রাহক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। রোববার সকাল থেকে কিছু এলাকায় সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হলেও বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার পরিবার অন্ধকারে রয়েছে।

ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিয়ে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর বারইয়ারহাট জোনাল অফিসের ডিজিএম হেদায়েত উল্লাহ জানান, ঝড়ে সঞ্চালন লাইনের ওপর গাছ ও ডালপালা পড়ে দুটি খুঁটি পুরোপুরি ভেঙে গেছে এবং সাতটি খুঁটি হেলে পড়েছে। এছাড়া দুটি ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়া ছাড়াও ৩০ থেকে ৪০টি স্পটে বৈদ্যুতিক তার ও ড্রপ তার ছিঁড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয় জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিশেষ করে বিপণিবিতান ও পোল্ট্রি খামারগুলো বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে তাদের চরম বেগ পেতে হচ্ছে।

সোনাপাহাড় এলাকার বাসিন্দা সাখাওয়াত সাকিব জানান, শনিবার দুপুর থেকে তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করা হলে তারা কাজ চলছে বলে জানালেও ঠিক কখন নাগাদ সংযোগ ফিরবে তা নিশ্চিত করতে পারেনি। বিষুমিয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কয়েকদিন ধরেই লোডশেডিং চলছিল, তার ওপর ঝড়ের কারণে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকা মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংস্কার কাজের জন্য মাঠ পর্যায়ে পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োজিত আছে। তবে বৃষ্টির কারণে ভেজা লাইনে কাজ করা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় মেরামত প্রক্রিয়া কিছুটা ধীরগতিতে চলছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে রোববার রাত বা সোমবার সকালের মধ্যে সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ডিজিএম হেদায়েত উল্লাহ।