কক্সবাজারের আকাশে রহস্যময় আলোর রেখা, ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ইঙ্গিত
- আপডেট সময় : ০৫:২৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের পশ্চিম আকাশে শুক্রবার সন্ধ্যায় দীর্ঘ আলোর রেখা দেখা যাওয়ায় পর্যটক ও স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকা থেকে আকাশে অস্বাভাবিক আলোর রেখাটি দেখা যায়। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এটি কোনো আবহাওয়াজনিত প্রাকৃতিক ঘটনা নয়। একই সময়ে ভারত বঙ্গোপসাগরের আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জন্য NOTAM জারি করেছিল বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে; তবে এটি নিশ্চিতভাবে অগ্নি-৬ ক্ষেপণাস্ত্র ছিল—এমন সরকারি ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
সৈকতের আকাশে হঠাৎ আলোর রেখা
শুক্রবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার সৈকতের লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্টে থাকা পর্যটকরা পশ্চিম আকাশে দীর্ঘ আলোর মতো একটি রেখা দেখতে পান। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে আকাশে রেখাটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অস্বাভাবিক দৃশ্যটি দেখে অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।
সৈকতে থাকা পর্যটকদের কেউ কেউ প্রথমে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আবার কেউ বিষয়টিকে অদ্ভুত ও বিরল দৃশ্য হিসেবে দেখেছেন। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আকাশে এমন আলোর রেখা দেখা যাওয়ায় অনেকে ক্ষেপণাস্ত্র বা সামরিক পরীক্ষার সঙ্গে বিষয়টি মিলিয়ে দেখেন।
আবহাওয়া অফিস বলছে, প্রাকৃতিক ঘটনা নয়
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের একজন আবহাওয়াবিদ জানিয়েছেন, আকাশে দেখা যাওয়া আলোর রেখাটি কোনো আবহাওয়াজনিত প্রাকৃতিক ঘটনা নয়। অর্থাৎ এটি মেঘ, বজ্রপাত, উল্কাপাত বা সাধারণ আবহাওয়ার কারণে তৈরি হয়েছে—এমন ব্যাখ্যা আবহাওয়া অফিস দেয়নি।
এ কারণে ঘটনাটি নিয়ে কৌতূহল আরও বেড়ে যায়। পরে একটি বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে বলা হয়, ভারত বঙ্গোপসাগরে সম্ভাব্য দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে আগেই সতর্কতা জারি করেছিল এবং বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে NOTAM, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে জল্পনা
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, ভারত ৬ থেকে ৯ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের আকাশসীমার একটি অংশে NOTAM জারি করেছিল, যা সাধারণত বিমান চলাচলের নিরাপত্তার জন্য নির্দিষ্ট এলাকায় সতর্কতা বা বিধিনিষেধ দিতে ব্যবহার করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ সম্ভাব্য দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জল্পনা তৈরি করেছে, তবে কোন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা হয়েছে তা নিয়ে সরকারি নিশ্চিত ঘোষণা নেই।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওড়িশা উপকূলের ড. এ পি জে আবদুল কালাম দ্বীপ থেকে বঙ্গোপসাগরের দিকে প্রায় ৩ হাজার ৫৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি করিডোরে আকাশসীমা সীমিত করা হয়েছিল। একই প্রতিবেদনে অগ্নি-৬ নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা মহলে জল্পনার কথাও বলা হয়েছে।
অগ্নি-৬ নাকি অন্য ক্ষেপণাস্ত্র—এখনো নিশ্চিত নয়
ঘটনাটি অগ্নি-৬ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা হতে পারে বলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এই দাবি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়। ভারতীয় কয়েকটি প্রতিবেদনে অগ্নি-৬ নিয়ে জল্পনার কথা বলা হলেও, অন্য প্রতিবেদনে সম্ভাব্য অগ্নি-৪ বা দূরপাল্লার অন্য ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কথাও এসেছে। ভারত টুডের প্রতিবেদনে ২৫ এপ্রিল থেকে ৬ মে পর্যন্ত আরেকটি NOTAM-এর কথা উল্লেখ করে সেটিকে অগ্নি-৪ ধরনের মধ্যম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
তাই কক্সবাজারের আকাশে দেখা আলোর রেখাকে সরাসরি “অগ্নি-৬ উৎক্ষেপণ” বলা এখনই নিরাপদ নয়। বরং যাচাই করা তথ্য অনুযায়ী বলা যায়, বঙ্গোপসাগর এলাকায় ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ঘিরে NOTAM জারির খবরের মধ্যেই কক্সবাজারের আকাশে রহস্যময় আলোর রেখা দেখা গেছে।
নৌবাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য মেলেনি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সামরিক ও কূটনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে এমন ঘটনায় সরকারি সূত্রের বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে পর্যটন শহর কক্সবাজারে হঠাৎ এমন দৃশ্য দেখা যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার কাছাকাছি বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে কোনো সামরিক পরীক্ষা হলে তা বিমান চলাচল, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির দিক থেকেও নজরকাড়া ঘটনা।













