শুধু জিপিএ-৫ নয়, বিশ্বমানের দক্ষ নাগরিক গড়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ১০:৪০:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে শুধু পরীক্ষাভিত্তিক ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, কেবল জিপিএ-৫ অর্জনের প্রতিযোগিতায় আটকে থাকলে চলবে না, নতুন প্রজন্মকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে তারা বিশ্ব প্রতিযোগিতায় সফলভাবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারে।
শনিবার (৯ মে) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত ‘চায়না-বাংলাদেশ এডুকেশন সহযোগিতা ফোরাম-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক শিক্ষাব্যবস্থার ওপর জোর
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রূপান্তর করাই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। তিনি মনে করেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবই নির্ভর জ্ঞান নয়, বাস্তব দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মানের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
বর্তমান ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের শিল্পখাত এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এই দূরত্ব কমাতে না পারলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি সম্ভব হবে না। বিশাল জনশক্তিকে কর্মক্ষম ও দক্ষ জনসম্পদে পরিণত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলেও জানান তিনি।
শ্রেণিকক্ষে কার্যকর মূল্যায়নের আহ্বান
ড. মিলন বলেন, গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতে এখনও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হয়নি। তবে সেই লক্ষ্য পূরণে সরকার প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেবে। শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু বছর শেষে পরীক্ষা নিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। প্রতিদিনের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার প্রকৃত মান নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও জানান, সরকার ইতোমধ্যে পাঠ্যক্রম ও একাডেমিক ক্যালেন্ডারে পরিবর্তন আনার কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি চীনের সঙ্গে যৌথ শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
চীনা ভাষা শিক্ষায় বাড়বে আন্তর্জাতিক সুযোগ
চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশটির শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত হলেও তুলনামূলকভাবে ব্যয় কম। বর্তমানে প্রায় ১৬ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সেখানে অধ্যয়ন করছে এবং সফলভাবে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলছে।
বিশ্বায়নের বাস্তবতায় সরকার ‘তৃতীয় ভাষা’ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে চীনা ভাষা শেখার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার ও উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে মত দেন শিক্ষামন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। এছাড়া শিক্ষা প্রশাসন ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।









