সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাবি সাংবাদিকতা বিভাগের অ্যালামনাই নেতৃত্বে ইলিয়াস-রিনভী-মাসউদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঈদ ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি কত দিন? শুধু জিপিএ-৫ নয়, বিশ্বমানের দক্ষ নাগরিক গড়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে কেটি পেরি–লিসার সঙ্গে বাংলাদেশের সঞ্জয় কারিনা কায়সার লাইফ সাপোর্টে, মেয়ের জন্য দোয়া চাইলেন কায়সার হামিদ ভয়াবহ অভিযোগ সেলিনার, স্বামীর বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ইতালিতে ছোট ভাই হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার বড় ভাই, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য মানব পাচারের অভিযোগে প্রথমবার বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞা বিয়ে গোপনের অভিযোগ ঘিরে ইতালিতে বাংলাদেশি প্রবাসীর ওপর হামলা, স্ত্রী আটক লিমন-বৃষ্টি হত্যার আগে হিশামকে নিয়ে পুলিশকে সতর্ক করেছিল পরিবার

৭ বছরের শিশুকে ২১ বছর দেখিয়ে মামলা, বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৮:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নাটোরের গুরুদাসপুরে সাত বছরের এক শিশুকে ২১ বছর বয়সী দেখিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলায় আসামি করার ঘটনায় মামলার বাদী শাহানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আগামী সাত দিনের মধ্যে শিশুটিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গুরুদাসপুর থানার উপপরিদর্শক বখতিয়ার হোসেনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার, ৫ মে নাটোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

আদালতে হাজির হন বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা

শিশু হুসেন আলীর আইনজীবী শামীম হোসেন প্রামাণিক জানান, আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বখতিয়ার হোসেন এবং বাদী শাহানুর রহমান ট্রাইব্যুনালে হাজির হন। শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, আসামিদের খুঁজতে তিনি এলাকায় গিয়েছিলেন। তবে সবাই আত্মগোপনে থাকায় বয়স যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, পাঁচ আসামির মধ্যে একজন শিশু—এ তথ্য কেউ পুলিশকে জানায়নি। এ সময় মামলার বাদী ভুলের জন্য আদালতের কাছে ক্ষমা চান। তবে আদালত বলেন, ভুল তথ্য দেওয়া গুরুতর অপরাধ; সাত বছরের শিশুকে ২১ বছর দেখানোর কোনো সুযোগ নেই।

‘এ ধরনের ভুলের ক্ষমা নেই’

আদালত মন্তব্য করেন, বয়স এক-দুই বছর এদিক-ওদিক হতে পারে, কিন্তু সাত বছরের শিশুকে ২১ বছর দেখানো গ্রহণযোগ্য নয়। ভুল তথ্য দিয়ে মামলা করার ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর আদালত বাদী শাহানুর রহমানের বিরুদ্ধে গুরুদাসপুর থানায় মামলা করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে শিশু হুসেন আলীকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দিতে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

দণ্ডবিধির ধারায় শাস্তির বিধান

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি আবদুল কাদের মিয়া বলেন, সরকারি কর্মচারীকে অসত্য তথ্য দিলে দণ্ডবিধির ১৭৭ ও ১৮২ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। এসব ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, এক হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

আইনজীবীদের মতে, শিশুদের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে বয়স যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো শিশুকে প্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে ফৌজদারি মামলায় জড়ানো হলে তা শুধু আইনি জটিলতা নয়, শিশুর মানসিক অবস্থার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

মামলার সূত্রপাত যেভাবে

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৯ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গুরুদাসপুরের ধারাবারিষা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে খাঁকড়াদহ গ্রামের শাহানুর রহমানের ছেলে শ্রাবণ সরকার বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলার সময় হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় অন্যরা পালিয়ে গেলেও শ্রাবণ আহত হন।

পরদিন শ্রাবণের বাবা শাহানুর রহমান শিশু হুসেন আলীসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও তিন থেকে চারজন অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে গুরুদাসপুর থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। এজাহারে হুসেনের বয়স ২১ বছর লেখা হয়। পরে জানা যায়, আসামিদের একজন হুসেন আলী মাত্র সাত বছরের শিশু।

আদালতের দ্বারস্থ হয় শিশুর পরিবার

ঘটনাটি জানার পর হুসেন ও তার পরিবার দ্রুত আদালতের দ্বারস্থ হয়। এর আগে শিশুটি স্কুলড্রেস পরে আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিষয়টি আলোচনায় আসে। আদালত তখন শিশুটির বয়স নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং জন্মনিবন্ধনসহ নথি দেখে তার বয়স সাত বছর সাত মাসের কিছু বেশি বলে জানা যায়।

এই ঘটনার পর মঙ্গলবার আদালত শিশুটিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে নির্দেশ দেন এবং ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে বাদীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেন। একটি শিশুকে এমন মামলার আসামি করার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের পাশাপাশি বিচারব্যবস্থায় তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্বও নতুন করে সামনে এসেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

৭ বছরের শিশুকে ২১ বছর দেখিয়ে মামলা, বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

আপডেট সময় : ০৪:৩৮:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

নাটোরের গুরুদাসপুরে সাত বছরের এক শিশুকে ২১ বছর বয়সী দেখিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলায় আসামি করার ঘটনায় মামলার বাদী শাহানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আগামী সাত দিনের মধ্যে শিশুটিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গুরুদাসপুর থানার উপপরিদর্শক বখতিয়ার হোসেনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার, ৫ মে নাটোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

আদালতে হাজির হন বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা

শিশু হুসেন আলীর আইনজীবী শামীম হোসেন প্রামাণিক জানান, আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বখতিয়ার হোসেন এবং বাদী শাহানুর রহমান ট্রাইব্যুনালে হাজির হন। শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, আসামিদের খুঁজতে তিনি এলাকায় গিয়েছিলেন। তবে সবাই আত্মগোপনে থাকায় বয়স যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, পাঁচ আসামির মধ্যে একজন শিশু—এ তথ্য কেউ পুলিশকে জানায়নি। এ সময় মামলার বাদী ভুলের জন্য আদালতের কাছে ক্ষমা চান। তবে আদালত বলেন, ভুল তথ্য দেওয়া গুরুতর অপরাধ; সাত বছরের শিশুকে ২১ বছর দেখানোর কোনো সুযোগ নেই।

‘এ ধরনের ভুলের ক্ষমা নেই’

আদালত মন্তব্য করেন, বয়স এক-দুই বছর এদিক-ওদিক হতে পারে, কিন্তু সাত বছরের শিশুকে ২১ বছর দেখানো গ্রহণযোগ্য নয়। ভুল তথ্য দিয়ে মামলা করার ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর আদালত বাদী শাহানুর রহমানের বিরুদ্ধে গুরুদাসপুর থানায় মামলা করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে শিশু হুসেন আলীকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দিতে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

দণ্ডবিধির ধারায় শাস্তির বিধান

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি আবদুল কাদের মিয়া বলেন, সরকারি কর্মচারীকে অসত্য তথ্য দিলে দণ্ডবিধির ১৭৭ ও ১৮২ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। এসব ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, এক হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

আইনজীবীদের মতে, শিশুদের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে বয়স যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো শিশুকে প্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে ফৌজদারি মামলায় জড়ানো হলে তা শুধু আইনি জটিলতা নয়, শিশুর মানসিক অবস্থার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

মামলার সূত্রপাত যেভাবে

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৯ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গুরুদাসপুরের ধারাবারিষা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে খাঁকড়াদহ গ্রামের শাহানুর রহমানের ছেলে শ্রাবণ সরকার বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলার সময় হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় অন্যরা পালিয়ে গেলেও শ্রাবণ আহত হন।

পরদিন শ্রাবণের বাবা শাহানুর রহমান শিশু হুসেন আলীসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও তিন থেকে চারজন অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে গুরুদাসপুর থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। এজাহারে হুসেনের বয়স ২১ বছর লেখা হয়। পরে জানা যায়, আসামিদের একজন হুসেন আলী মাত্র সাত বছরের শিশু।

আদালতের দ্বারস্থ হয় শিশুর পরিবার

ঘটনাটি জানার পর হুসেন ও তার পরিবার দ্রুত আদালতের দ্বারস্থ হয়। এর আগে শিশুটি স্কুলড্রেস পরে আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিষয়টি আলোচনায় আসে। আদালত তখন শিশুটির বয়স নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং জন্মনিবন্ধনসহ নথি দেখে তার বয়স সাত বছর সাত মাসের কিছু বেশি বলে জানা যায়।

এই ঘটনার পর মঙ্গলবার আদালত শিশুটিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে নির্দেশ দেন এবং ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে বাদীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেন। একটি শিশুকে এমন মামলার আসামি করার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের পাশাপাশি বিচারব্যবস্থায় তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্বও নতুন করে সামনে এসেছে।