ইতালিতে ছোট ভাই হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার বড় ভাই, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
- আপডেট সময় : ১০:০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
ইতালির লেইজ শহরে ছোট ভাই নয়ন ফকিরকে হত্যার ঘটনায় বড় ভাই হুমায়ুন ফকিরকে গ্রেপ্তার করেছে ইতালিয়ান পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের পর একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। নিহত নয়ন ফকির মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পশ্চিম সোনারং গ্রামের বাসিন্দা। পারিবারিক সূত্র বলছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক দ্বন্দ্ব, পরকীয়া সম্পর্ক, দ্বিতীয় বিয়ে এবং অর্থনৈতিক বিরোধের জের ধরেই এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে।
পারিবারিক বিরোধ থেকেই বাড়তে থাকে উত্তেজনা
স্বজনদের অভিযোগ, হুমায়ুন ফকির প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থাতেই নিজের চাচাতো বোনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করলে পরিবারে অস্থিরতা আরও বেড়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল বলে জানা গেছে।
পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, দ্বিতীয় স্ত্রীকে ঘরে তোলার পর সম্পর্ক আরও খারাপ হয়ে পড়ে। এমনকি বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো ঘটনাও ঘটে। এসব নিয়ে পরিবারে ক্রমেই বাড়তে থাকে উত্তেজনা ও দূরত্ব।
আর্থিক লেনদেন নিয়েও ছিল দ্বন্দ্ব
শুধু পারিবারিক বিষয় নয়, অর্থনৈতিক বিরোধও এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কারণ বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, ইতালিতে নেওয়ার খরচসহ বিভিন্ন সময় টাকা-পয়সা নিয়ে নয়নের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন হুমায়ুন। একপর্যায়ে তিনি ৮ লাখ টাকা দাবি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্বজনরা জানান, টাকা ও পারিবারিক বিরোধ মিলিয়ে দুই ভাইয়ের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই তিক্ত হয়ে উঠেছিল। তবে পরিস্থিতি যে এত ভয়াবহ পরিণতি নেবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি।
বৈদ্যুতিক সাইকেল চার্জ দিতে গিয়ে খুন
ঘটনার দিন স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে নয়ন ফকির তার ভাইয়ের বাসার নিচে বৈদ্যুতিক সাইকেল চার্জ দিতে যান। অভিযোগ রয়েছে, সেই সময় পেছন থেকে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান নয়ন।
ঘটনার পর আরও ভয়াবহ অভিযোগ ওঠে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, হত্যার পর ভিডিও কলের মাধ্যমে পুরো ঘটনা স্বজনদের দেখানো হয়। এ ঘটনায় এলাকায় এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
তদন্তে ইতালি পুলিশ
ঘটনার পরপরই ইতালি পুলিশ হুমায়ুন ফকিরকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে হত্যার পেছনের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে। নিহতের পরিবার ঘাতকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে।
একই পরিবারের দুই ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে পুরো পরিবারজুড়ে।









