গাজীপুরে একই পরিবারের ৫ জনকে হত্যা, স্বামী পলাতক
- আপডেট সময় : ০৭:০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক প্রবাসীর বাড়ি থেকে একই পরিবারের পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে ভাড়াটিয়া ফোরকান মিয়ার স্ত্রী, তিন সন্তান ও তাঁর এক শ্যালক রয়েছেন। ঘটনার পর থেকে ফোরকান মিয়া পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার, ৮ মে রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন ফোরকান মিয়া। শুক্রবার রাতেও পরিবারটিকে স্বাভাবিকভাবে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু শনিবার সকালে ওই বাড়িতে পাঁচজনের মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থা ঘটনাস্থলে যায়। পরে বাড়িটিতে সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পুলিশের ফরেনসিক দল আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করে। ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
নিহতদের মধ্যে স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালক
যুগান্তরের প্রতিবেদনে নিহতদের পরিচয় হিসেবে ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন, তাঁদের তিন সন্তান মীম, মারিয়া ও ফরিদ এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন হিসেবে ফোরকান মিয়াকে খুঁজছে পুলিশ।
স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, ফোরকান মিয়া ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ ছিল। সেই বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
পলাতক ফোরকানকে ধরতে অভিযান
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুর আলম জানিয়েছেন, ফোরকান মিয়া প্রায় এক বছর আগে ওই বাড়িটি ভাড়া নেন। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে পুলিশ পুরো ঘটনা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।
গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশফাক উজ্জামান জানান, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করেছে।
শোকের ছায়া কাপাসিয়ায়
একই পরিবারের পাঁচজনের এমন মৃত্যুতে রাউতকোনা গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, একটি পরিবার এক রাতেই প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি তাঁদের স্তব্ধ করে দিয়েছে।
পুলিশ বলছে, ফরেনসিক প্রতিবেদন, ময়নাতদন্ত এবং প্রত্যক্ষ তথ্য যাচাইয়ের পর হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ পরিষ্কার হবে। এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো পলাতক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা এবং নিহতদের পরিবারকে ন্যায়বিচারের পথে এগিয়ে নেওয়া।












