লিমন-বৃষ্টি হত্যার আগে হিশামকে নিয়ে পুলিশকে সতর্ক করেছিল পরিবার
- আপডেট সময় : ০৯:৪২:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হিশাম আবুঘারবিয়েহকে নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। হিশামের ছোট ভাই আহমদ আবুঘারবিয়েহ দাবি করেছেন, তাঁর ভাইয়ের অস্বাভাবিক ও আক্রমণাত্মক আচরণ নিয়ে পরিবার আগেও একাধিকবার পুলিশকে সতর্ক করেছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আহমদ বলেন, হিশাম হঠাৎ রেগে যেতেন এবং রাগের সময় আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতেন।
পরিবারের দাবি, আগেও উদ্বেগের কারণ ছিল হিশাম
আহমদ আবুঘারবিয়েহ জানান, হিশামের আচরণ নিয়ে পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বিগ্ন ছিল। তাঁর দাবি, হিশাম মাঝরাতে চিৎকার করতেন এবং অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। এমন পরিস্থিতিতে হিশামের রুমমেটদের সঙ্গে থাকার বিষয়টি তিনি জানতেন না বলেও জানান।
লিমন-বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের পর আহমদ বলেন, হিশামের একা থাকা উচিত ছিল। তাঁর বক্তব্যে বোঝা যায়, পরিবারটি আগেই আশঙ্কা করেছিল যে হিশামের আচরণ অন্যদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে এসব তথ্য এখনো আদালতে প্রমাণিত নয়; এগুলো পরিবারের দাবি ও আদালতের নথিভিত্তিক অভিযোগ।
নিখোঁজের পর সেতু এলাকায় যাতায়াতের তথ্য
প্রসিকিউটরদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজ হওয়ার পর ১৭ এপ্রিল রাত ১টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে হিশাম হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড সেতু এলাকায় অন্তত ছয়বার যাওয়া-আসা করেন। তদন্তকারীদের ধারণা, হত্যার আলামত নষ্ট করতে মরদেহ ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র পানিতে ফেলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।
এর আগে ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর ২৪ এপ্রিল টাম্পা বে এলাকার হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড সেতুর কাছে জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে একই এলাকায় আরেকটি মরদেহ পাওয়া যায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপি জানিয়েছে, মামলায় হিশামের বিরুদ্ধে দুই বাংলাদেশি ইউএসএফ ডক্টরাল শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টিকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সুরক্ষামূলক আদেশের আবেদন করেছিল পরিবার
আদালতের নথি অনুযায়ী, হিশাম আবুঘারবিয়েহের বিরুদ্ধে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দুইবার সুরক্ষামূলক আদেশের আবেদন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০২৩ সালের আবেদনটি মঞ্জুর হলেও ২০২৫ সালের আবেদনটি খারিজ হয়ে যায়। ২০২৫ সালের আবেদন খারিজের সময় বিচারক উল্লেখ করেন, শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগগুলো যথাযথভাবে এগিয়ে নেওয়া হয়নি।
আহমদ জানান, আর্থিক সংকটের কারণে ২০২৩ সালে ভাইয়ের বিরুদ্ধে শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগ নিয়ে তিনি আর এগোননি। পরে সেই সিদ্ধান্তের জন্য তিনি অনুতপ্ত হন বলেও জানান। তাঁর দাবি, অতীতেও হিশামের আক্রমণাত্মক আচরণের কারণে পরিবার পুলিশকে জানায়।
পরিবারের ফোনের পর গ্রেপ্তার
লিমনের মরদেহ উদ্ধারের দিন সকালে হিশাম তাঁর পরিবারের বাড়িতে যান বলে জানান আহমদ। তাঁর দাবি, হিশামের আচরণ অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে ফোন করেন। পরে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের ডেপুটিরা তাঁকে হেফাজতে নেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হিশামের বিরুদ্ধে দুইটি ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটররা তাঁকে সমাজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন এবং বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এপি জানিয়েছে, প্রসিকিউটররা এই মামলায় মৃত্যুদণ্ড চাইবেন।
নিহতদের পরিবারের প্রতি দুঃখ প্রকাশ
হিশামের ভাই আহমদ নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, যা ঘটেছে তা নিয়ে তিনি ও তাঁর পরিবার লজ্জা ও অপরাধবোধে ভুগছেন। তাঁদের দাবি, অতীতেও তাঁরা পুলিশকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলেন।
অন্যদিকে হিশামের পক্ষে লড়ছে হিলসবরো কাউন্টি পাবলিক ডিফেন্ডারের অফিস। তারা জানিয়েছে, মামলাটি নিয়ে জনমনে কৌতূহল থাকলেও মক্কেলের ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করার স্বার্থে তারা জনসমক্ষে মন্তব্য করছে না। স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ নিহত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।









