সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাবি সাংবাদিকতা বিভাগের অ্যালামনাই নেতৃত্বে ইলিয়াস-রিনভী-মাসউদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঈদ ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি কত দিন? শুধু জিপিএ-৫ নয়, বিশ্বমানের দক্ষ নাগরিক গড়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে কেটি পেরি–লিসার সঙ্গে বাংলাদেশের সঞ্জয় কারিনা কায়সার লাইফ সাপোর্টে, মেয়ের জন্য দোয়া চাইলেন কায়সার হামিদ ভয়াবহ অভিযোগ সেলিনার, স্বামীর বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ইতালিতে ছোট ভাই হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার বড় ভাই, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য মানব পাচারের অভিযোগে প্রথমবার বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞা বিয়ে গোপনের অভিযোগ ঘিরে ইতালিতে বাংলাদেশি প্রবাসীর ওপর হামলা, স্ত্রী আটক লিমন-বৃষ্টি হত্যার আগে হিশামকে নিয়ে পুলিশকে সতর্ক করেছিল পরিবার

টাকা না পেয়ে ব্যাংকে তালা, অবরুদ্ধ কর্মকর্তারা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে আমানতের টাকা তুলতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা কয়েকটি ব্যাংকের শাখায় তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নিয়েছেন। রোববার, ৩ মে সকাল থেকে খাতুনগঞ্জের আমির মার্কেট এলাকায় কয়েকশ গ্রাহক বিক্ষোভ করেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের জমা টাকা তুলতে পারছেন না তাঁরা; এর মধ্যে নতুন করে ‘হেয়ারকাট’ পদ্ধতির কথা ওঠায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা খুলে দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আমির মার্কেট এলাকায় সকাল থেকে উত্তেজনা

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, সকাল ১১টার দিকে খাতুনগঞ্জের আমির মার্কেট এলাকায় গ্রাহকরা জড়ো হন। প্রথমে তাঁরা ইউনিয়ন ব্যাংকের একটি শাখার প্রধান ফটকে তালা দেন। পরে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের সামনেও অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা।

এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ব্যাংকগুলোর সামনে ভিড় বাড়তে থাকে। অনেকেই হাতে কাগজপত্র নিয়ে নিজেদের জমা অর্থ ফেরতের দাবি জানান। গ্রাহকদের ভাষ্য, দিনের পর দিন ব্যাংকে ঘুরেও তাঁরা প্রত্যাশিত টাকা তুলতে পারছেন না।

গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক শাখায় বেশি উত্তেজনা

কালবেলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের শাখায় সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা দেখা যায়। বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা ওই শাখার ব্যবস্থাপককে তাঁর কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়, তালা খুলে দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এলাকায় থমথমে অবস্থা ছিল।

গ্রাহকদের ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল আমানতের টাকা উত্তোলনে দীর্ঘসূত্রতা। তাঁদের দাবি, গত দুই বছর ধরে তাঁরা নিজেদের জমাকৃত অর্থ তুলতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। জরুরি চিকিৎসা, ব্যবসা, পারিবারিক প্রয়োজন—সব ক্ষেত্রেই টাকা না পাওয়ায় তাঁদের জীবনযাত্রায় চাপ তৈরি হয়েছে।

‘হেয়ারকাট’ পদ্ধতি বাতিলের দাবি

আন্দোলনরত গ্রাহকদের অভিযোগ, এখন ‘হেয়ারকাট’ পদ্ধতির মাধ্যমে আমানতের একটি অংশ কেটে রাখার সিদ্ধান্তের কথা বলা হচ্ছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁদের ক্ষোভ আরও তীব্র হয়। গ্রাহকরা বলেন, তাঁরা নিজেদের টাকা তুলতে পারছেন না; দীর্ঘদিন ধরে আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।

একজন গ্রাহক জানান, পরিবারের অসুস্থ সদস্যের চিকিৎসার জন্য টাকা তুলতে এসেও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, কাগজে-কলমে লেনদেন স্বাভাবিক বলা হলেও বাস্তবে তা কার্যকর নয়। বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে হেয়ারকাট পদ্ধতি বাতিল, স্বাভাবিক লেনদেন চালু এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

ব্যাংক কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও পুলিশের অবস্থান

সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, লেনদেন সীমাবদ্ধতা বা হেয়ারকাটের বিষয়ে তাঁদের নিজস্বভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ীই তাঁরা কাজ করছেন। অন্যদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খাতুনগঞ্জ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত সমাধান না এলে তাঁরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে পারেন। আমানতকারীদের এই ক্ষোভ শুধু একটি শাখা বা একটি দিনের ঘটনা নয়; এটি ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার সংকটকেও সামনে নিয়ে এসেছে। নিজের সঞ্চয় প্রয়োজনের সময়ে তুলতে না পারার অসহায়তা এখন অনেক গ্রাহকের কাছে আর্থিক সংকটের পাশাপাশি মানবিক যন্ত্রণায় পরিণত হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

টাকা না পেয়ে ব্যাংকে তালা, অবরুদ্ধ কর্মকর্তারা

আপডেট সময় : ০৩:০২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে আমানতের টাকা তুলতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা কয়েকটি ব্যাংকের শাখায় তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নিয়েছেন। রোববার, ৩ মে সকাল থেকে খাতুনগঞ্জের আমির মার্কেট এলাকায় কয়েকশ গ্রাহক বিক্ষোভ করেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের জমা টাকা তুলতে পারছেন না তাঁরা; এর মধ্যে নতুন করে ‘হেয়ারকাট’ পদ্ধতির কথা ওঠায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা খুলে দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আমির মার্কেট এলাকায় সকাল থেকে উত্তেজনা

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, সকাল ১১টার দিকে খাতুনগঞ্জের আমির মার্কেট এলাকায় গ্রাহকরা জড়ো হন। প্রথমে তাঁরা ইউনিয়ন ব্যাংকের একটি শাখার প্রধান ফটকে তালা দেন। পরে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের সামনেও অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা।

এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ব্যাংকগুলোর সামনে ভিড় বাড়তে থাকে। অনেকেই হাতে কাগজপত্র নিয়ে নিজেদের জমা অর্থ ফেরতের দাবি জানান। গ্রাহকদের ভাষ্য, দিনের পর দিন ব্যাংকে ঘুরেও তাঁরা প্রত্যাশিত টাকা তুলতে পারছেন না।

গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক শাখায় বেশি উত্তেজনা

কালবেলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের শাখায় সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা দেখা যায়। বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা ওই শাখার ব্যবস্থাপককে তাঁর কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়, তালা খুলে দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এলাকায় থমথমে অবস্থা ছিল।

গ্রাহকদের ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল আমানতের টাকা উত্তোলনে দীর্ঘসূত্রতা। তাঁদের দাবি, গত দুই বছর ধরে তাঁরা নিজেদের জমাকৃত অর্থ তুলতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। জরুরি চিকিৎসা, ব্যবসা, পারিবারিক প্রয়োজন—সব ক্ষেত্রেই টাকা না পাওয়ায় তাঁদের জীবনযাত্রায় চাপ তৈরি হয়েছে।

‘হেয়ারকাট’ পদ্ধতি বাতিলের দাবি

আন্দোলনরত গ্রাহকদের অভিযোগ, এখন ‘হেয়ারকাট’ পদ্ধতির মাধ্যমে আমানতের একটি অংশ কেটে রাখার সিদ্ধান্তের কথা বলা হচ্ছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁদের ক্ষোভ আরও তীব্র হয়। গ্রাহকরা বলেন, তাঁরা নিজেদের টাকা তুলতে পারছেন না; দীর্ঘদিন ধরে আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।

একজন গ্রাহক জানান, পরিবারের অসুস্থ সদস্যের চিকিৎসার জন্য টাকা তুলতে এসেও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, কাগজে-কলমে লেনদেন স্বাভাবিক বলা হলেও বাস্তবে তা কার্যকর নয়। বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে হেয়ারকাট পদ্ধতি বাতিল, স্বাভাবিক লেনদেন চালু এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

ব্যাংক কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও পুলিশের অবস্থান

সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, লেনদেন সীমাবদ্ধতা বা হেয়ারকাটের বিষয়ে তাঁদের নিজস্বভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ীই তাঁরা কাজ করছেন। অন্যদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খাতুনগঞ্জ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত সমাধান না এলে তাঁরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে পারেন। আমানতকারীদের এই ক্ষোভ শুধু একটি শাখা বা একটি দিনের ঘটনা নয়; এটি ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার সংকটকেও সামনে নিয়ে এসেছে। নিজের সঞ্চয় প্রয়োজনের সময়ে তুলতে না পারার অসহায়তা এখন অনেক গ্রাহকের কাছে আর্থিক সংকটের পাশাপাশি মানবিক যন্ত্রণায় পরিণত হয়েছে।