ই-ট্রাফিক চালু: আইন ভাঙলেই অটো নোটিশ, হাজিরা না দিলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
- আপডেট সময় : ০২:৪৮:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
ঢাকার সড়কে ট্রাফিক আইন ভাঙলে এখন সিসিটিভি ও এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিশ পাঠাবে ঢাকা মহানগর পুলিশ। নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধ না করলে বা হাজিরা না দিলে সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিক বা চালকের বিরুদ্ধে সমন, এমনকি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মতো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রোববার, ৩ মে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সিসিটিভি ও এআই ক্যামেরায় ধরা পড়বে নিয়ম ভঙ্গ
ঢাকার বিভিন্ন সড়ক, ট্রাফিক সিগন্যাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে উন্নত প্রযুক্তির সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছে ডিএমপি। এসব ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের শনাক্ত করা হবে। বিশেষ করে লাল বাতি অমান্য করা, স্টপ লাইন অতিক্রম করা, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, অবৈধ পার্কিং, বাম লেন আটকে রাখা এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে ডিজিটাল প্রসিকিউশন শুরু হয়েছে।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য রাজধানীর যানজট কমানো, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করা এবং নাগরিক সেবা আরও সহজ করা। পাশাপাশি নিবন্ধন বা ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অবৈধভাবে সড়ক দখল এবং চলাচলে বাধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঠিকানায় যাবে অটো নোটিশ, জরিমানা পরিশোধের নির্দেশ
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে গাড়ির মালিক বা চালকের ঠিকানায় নিবন্ধিত ডাকযোগে স্বয়ংক্রিয় নোটিশ পাঠাবে। নোটিশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ডিএমপি সদর দপ্তর বা নির্ধারিত ট্রাফিক বিভাগে হাজির হতে হবে।
সেখানে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী নির্ধারিত জরিমানা ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। অর্থাৎ সড়কে আইন ভাঙার পর আর শুধু ঘটনাস্থলে দায় এড়ানোর সুযোগ থাকছে না; ক্যামেরার ফুটেজ ও ডিজিটাল রেকর্ডের ভিত্তিতেও মামলা এগোবে।
হাজিরা না দিলে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নোটিশ পাওয়ার পরও যদি গাড়ির মালিক বা চালক হাজির না হন, তাহলে ডিএমপির বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সমন জারি বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও কার্যকর হতে পারে।
এই ব্যবস্থা চালু হলে ট্রাফিক আইন প্রয়োগে শৃঙ্খলা বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, আইন ভঙ্গের দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়লে সেটি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে চালক ও গাড়ির মালিকদেরও আরও সতর্ক হয়ে সড়কে চলতে হবে।
প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান
ডিএমপি নাগরিকদের সতর্ক করে বলেছে, সিসিটিভি বা ভিডিওভিত্তিক মামলার নামে কেউ ব্যক্তিগত তথ্য চাইলে বা অর্থ লেনদেন করতে বললে সতর্ক থাকতে হবে। এ ধরনের কোনো ব্যক্তি বা চক্র টাকা আদায়ের চেষ্টা করলে নিকটস্থ থানা বা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা কার্যকরভাবে চালু থাকলে ঢাকার সড়কে অনিয়ম কমানো, জরিমানা আদায়ে স্বচ্ছতা আনা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও জবাবদিহিমূলক করার সুযোগ তৈরি হবে। তবে নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো—নোটিশ পাওয়ার পর তা অবহেলা না করা এবং সরকারি নির্ধারিত প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো আর্থিক লেনদেন না করা।












