রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে টেকসই চাপ বজায় রাখার আহ্বান বাংলাদেশের
- আপডেট সময় : ০৫:২৬:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের ওপর টেকসই কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা ও চাপ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। ১৭ অক্টোবর ইরাকের বাগদাদে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পরিষদের ৫২তম অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমাইউন কবির এই আহ্বান জানান, বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের এই সংকটের টেকসই সমাধানে ওআইসি সদস্য দেশগুলোকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকতে হবে। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ফেরার অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর তিনি জোর দেন। তাঁর মতে, একক কোনো দেশের প্রচেষ্টায় এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়; আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা অপরিহার্য।
মুসলিম বিশ্বের নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী, আধুনিক ও গতিশীল ওআইসি গড়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি বক্তব্যে তুলে ধরেন। সংস্থাটির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সম্মিলিত সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘস্থায়ী মানবিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর তাঁদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক ফোরামে বারবার তুলে ধরেছে ঢাকা। ওআইসির এই অধিবেশনে বাংলাদেশের এই আহ্বান সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে ফেরার পরিবেশ নিশ্চিত করতে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। ওআইসি সদস্য দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদলগুলো রোহিঙ্গা ইস্যুসহ মুসলিম বিশ্বের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে। একটি শক্তিশালী ও কার্যকর ওআইসি গড়ে তুলতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও ঐক্য বাড়ানোর আহ্বানও সেখানে প্রতিধ্বনিত হয়।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক ফোরামে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছে। বাগদাদের এই অধিবেশনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য সেই ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টারই অংশ। মিয়ানমারের ওপর টেকসই চাপ ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা বজায় থাকলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে—এমন প্রত্যাশাই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ব্যক্ত করা হয়।
সূত্র: BSS
https://www.bssnews.net/news/436014

























