পেট্রোলিয়াম আমদানির এলসি বেড়েছে ৬৫ শতাংশ
- আপডেট সময় : ০৩:০৪:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানির জন্য খোলা ঋণপত্রের (এলসি) মূল্য আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৫ শতাংশ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে এই খাতে এলসি খোলা হয়েছে ৩৭০ কোটি ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ২২৮ কোটি ডলার।
সবচেয়ে বেশি বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের এলসি—প্রায় তিন গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৩ কোটি ডলারে। গ্যাসসহ অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের এলসি বেড়ে হয়েছে ২৪০ কোটি ডলার, যা আগের বছর ছিল ১১২ কোটি ডলার। এলসি খোলার হারে এই বড় উল্লম্ফন জ্বালানি খাতে ব্যয়বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জ্বালানি অর্থনীতি বিশ্লেষক শফিকুল আলমের মতে, আমদানির পরিমাণ তেমন বাড়েনি, বেড়েছে মূলত কেনার খরচ। অর্থাৎ একই পরিমাণ জ্বালানি কিনতে এখন আগের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। তাঁর হিসাবে, এ বছর জ্বালানি আমদানির মোট ব্যয় ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।
জ্বালানির এই বাড়তি ব্যয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে জ্বালানির দাম বাড়লে তার প্রভাব পরিবহন ও উৎপাদন খাতসহ পুরো অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে।
এই হারে এলসি বৃদ্ধি অর্থনীতির ওপর জ্বালানি ব্যয়ের চাপ আরও বাড়াবে। বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে সরকারের পরিকল্পনায় জ্বালানি খাতের দিকে বাড়তি নজর দিতে হবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। আমদানিনির্ভর জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের ভাবনার ক্ষেত্রও এতে আরও বাড়ল।
জ্বালানি আমদানিতে সাশ্রয় ও বিকল্প উৎসের সন্ধানে সরকার এরই মধ্যে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের মতো পদক্ষেপগুলো দীর্ঘমেয়াদে আমদানিনির্ভরতা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সার্বিকভাবে, পেট্রোলিয়াম এলসির এই বৃদ্ধি আগামী মাসগুলোতে জ্বালানি খাতের ব্যয়ব্যবস্থাপনায় সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে বাজেটের ওপর চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
সূত্র: The Daily Star
https://www.thedailystar.net/business/economy/news/lc-openings-petroleum-imports-surge-65-amid-war-4302821


























