ঢাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা মামলায় শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী ৩ দিনের রিমান্ডে
- আপডেট সময় : ০২:৩০:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার, ৩ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনজুরুল ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলাটি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গন ও নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারে গভীর শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
রিমান্ড আবেদনের পর আদালতের আদেশ
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক কাজী ইকবাল হোসেন গত ২৯ এপ্রিল সুদীপ চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করেন। পরে বিষয়টি আদালতের কার্যতালিকায় আসে। শুনানি শেষে আদালত তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে এই মামলায় সুদীপ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হয়েছিল। পুলিশ তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানায়। শুনানি শেষে গত ২৮ এপ্রিল আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
নিজ কক্ষ থেকে উদ্ধার, হাসপাতালে মৃত্যু ঘোষণা
মামলার নথি অনুযায়ী, মুনিরা মাহজাবিন মিমো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর বাড্ডার বাসায় থাকতেন।
গত ২৬ এপ্রিল সকালে নিজ কক্ষ থেকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তরুণ এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোক নেমে আসে।
ঘটনাস্থলের চিরকুট ও মামলার সূত্রপাত
ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ আছে। সেখানে কিছু ব্যক্তিগত বিষয় ও আর্থিক লেনদেনের প্রসঙ্গ পাওয়া যায়। চিরকুটে সুদীপ চক্রবর্তীর নামও ছিল বলে পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনার পর নিহত শিক্ষার্থীর বাবা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় মামলা করেন। মামলার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়। এখন রিমান্ডে নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার পেছনের কারণ, অভিযোগের ভিত্তি এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করতে চায় পুলিশ।
তদন্তের দিকেই এখন সবার নজর
মিমোর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনের জন্যও বেদনাদায়ক ঘটনা হয়ে উঠেছে। একজন শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যু ঘিরে যেসব অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আইনগতভাবে সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। আদালতের রিমান্ড আদেশের পর তদন্ত কর্মকর্তারা তাঁর কাছ থেকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার চেষ্টা করবেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তবে নিহত শিক্ষার্থীর পরিবার ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছে।










